শুরু হয়েছে ব্রাজিলে বিশ্বকাপের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপ শুরু হলেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুই শিবিরে বিভক্ত হয় বাংলাদেশের চিরকালীন পাগলপারা দর্শক। প্রিয় দলকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য রাত জেগে খেলা দেখে। জ্যৈষ্ঠের এক বিকেলে শোবিজের ছয় টিনএজ তারকা তুষার, নাউমি, মুগ্ধ, ইভানা, নোবেল, রোজাকে নিয়ে আড্ডা হচ্ছিল আনন্দ আলোর কার্যালয়ে। আড্ডার বিষয় নিয়ে লিখেছেন- মোহাম্মদ তারেক
আনন্দ আলো: আপনারা বিশ্বকাপ ফুটবলে কে কোন দলকে সমর্থন করছেন?
মুগ্ধ: ফুটবল আমার প্রিয় খেলা। আমি ব্রাজিল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক। নেইমারের পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় আছি।
তুষার: আমি পুরোদস্তুর আর্জেন্টিনার সমর্থক। আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে ফেলেছি। বন্ধুদের নিয়ে খেলাগুলো উপভোগ করব। আমার পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন করে।
নাউমি: ব্রাজিল-ব্রাজিল-ব্রাজিল। আমি ব্রাজিল দলের এক পাগল সমর্থক।
নোবেল: আমি সব সময় আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক।
ইভানা: সবাই জানে আমি ব্রাজিলের সমর্থক। কারণ আমার বাড়ির ছাদে উড়ছে ব্রাজিলের বিশাল এক পতাকা।
আনন্দ আলো: কেন ব্রাজিল এবং কেন আর্জেন্টিনা?
মুগ্ধ: আমি যখন খেলা বুঝতে শিখলাম তখন হঠাৎ করেই ব্রাজিলের খেলা আমার ভালো লেগে যায়। বিশেষ কোনো কারণে না। তবে এখন যেটা মনে হয় আমার ভেতরে একটা বোধের ব্যাপার আছে, ভালো লাগার ব্যাপার আছে, নান্দনিকতার ব্যাপার আছে। সবদিক চিন্তা করে ব্রাজিলের খেলা আমার নান্দনিক মনে হয়। আর সে কারণেই ব্রাজিল আমার প্রিয় দল।
রোজা: আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার কারণটা হলো তাদের খেলায় আছে অসাধারণ নৈপুণ্য। আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড় মেসি এবার নিশ্চয়ই বিশ্বসেরা ফুটবলার হবে।
ইভানা: স্টার ভরপুর ব্রাজিল। ব্রাজিল দলে এত তারকা খেলোয়াড় যাদের মাঠে দেখলেই দলের প্রতি ভালোলাগা চলে আসে। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের নেইমার চমক দেখাবে।
নোবেল: আর্জেন্টিনা দলে মেসি ছাড়াও হিগোয়েন, আগুয়েরা, ডি মারিয়ার মতো ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে। এ কারণে আর্জেন্টিনা আমার পছন্দের দল।
নাউমি: ব্রাজিলের প্রতি ভালো লাগার কারণটা হলো তাদের খেলার স্টাইল। টোটাল ফুটবল বলতে যা বোঝায় ব্রাজিল ঠিক তেমনি খেলে। ব্রাজিলের সবাই একই মানের খেলোয়াড়। তাদের টিম স্পিরিট অতুলনীয়।
তুষার: আর্জেন্টিনাকে পছন্দের একটা বড় কারণ আছে। তাহলো বিশ্বের একনম্বর খেলোয়াড় মেসি আমার প্রিয় খেলোয়াড়। মেসিও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। তার পায়ের জাদু দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকবে সবাই।
আনন্দ আলো: প্রিয় খেলোয়াড় কে?
নাউমি: আমার প্রিয় খেলোয়াড় নেইমার।
তুষার: মেসি আমার প্রিয় খেলোয়াড়।
মুগ্ধ: প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
রোজা: আমার প্রিয় খেলোয়াড় মেসি।
ইভানা: অস্কার, নেইমার এরা দুজন আমার প্রিয় খেলোয়াড়।
নোবেল: প্রথমে ম্যারাডোনা তারপর মেসি।
আনন্দ আলো: এবারের বিশ্বকাপে কোন দেশ চ্যাম্পিয়ন হবে?
মুগ্ধ: ব্রাজিল মানেই সুন্দর ফুটবল এবং নেইমার নিজেও তার অংশ। বাস্তবতা হলো ঘরের মাঠে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফিটা হাতে তুলে নেবে ব্রাজিল।
তুষার: এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় মেসি আছেন।
নাউমি: তোমাদের ভরসা শুধু মেসিকে নিয়ে। আমাদের ব্রাজিল দলে নেইমার ছাড়াও অস্কার, মার্সালো, হাল্ক, দানি আলভেজ, পাওলিনহোরা, ডেভিড লুইজ, থিয়াগো সিলভার মতো ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা সবাই সমমানের খেলোয়াড়। অতুলনীয় তাদের টিম স্পিরিট। আমি আশাকরি এবার ব্রাজিল বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলবে।
রোজা: অবশ্যই আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে।
ইভানা: আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। আমি যেহেতু ব্রাজিলের সমর্থক তাই চাইব এবার যেন ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়।
নোবেল: খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলতে পারছি না কারা চ্যাম্পিয়ন হবে। আমি চাই আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হোক।
আনন্দ আলো: খেলা দেখার প্রস্তুতি...
নাউমি: এবারের বিশ্বকাপের খেলাগুলো গভীর রাতে হবে তাই সবগুলো খেলা দেখা কঠিন হয়ে যাবে। তবে রাত জেগে হলেও ব্রাজিল দলের খেলাগুলো দেখব।
তুষার: নিজের কথা বলতে পারি, যেদিন আর্জেন্টিনার খেলা হবে সেদিন কোনো কাজ করব না। রাত জেগে বন্ধুদের নিয়ে খেলা দেখব। খেলা দেখার জন্য এরই মধ্যে আমি একটি জেনারেটর কিনে ফেলেছি। বিদ্যুৎ চলে গেলেও যেন প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারি।
মুগ্ধ: বিশ্বকাপের খেলা দেখা মানেই টান টান উত্তেজনা নিয়ে টিভির সামনে বসে থাকা। প্রতিটি ম্যাচই খুব মজা করে ভাইবোনরা মিলে উপভোগ করব। প্রিয় দলের খেলা হলে দুই-তিনদিন আগে থেকেই প্ল্যান থাকবে যাতে করে খেলার সময়টা ঝামেলামুক্ত থাকা যায়।
নোবেল: রাত জেগে পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখব, খাওয়া-দাওয়া হবে এটা নিয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড।
ইভানা: এবারের বিশ্বকাপের ব্রাজিলের খেলাগুলো রাত জেগে দেখার প্ল্যান আগে থেকেই করে রেখেছি। বাসার সামনে ব্রাজিলের বিশাল একটা পতাকা টানিয়ে রেখেছি। বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে বাসায় বসে খেলাগুলো দেখব।
রোজা: বিশ্বকাপ খেলা দেখার প্রস্তুতি অনেক মজার। বাসার সবাই খেলা নিয়ে এক্সসাইটেড হয়ে পড়ে। একঘন্টা আগে থেকেই রেডি হয়ে বসে থাকব টিভির সামনে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়ে আর্জেন্টিনার খেলাগুলো দেখব। খেলা দেখার সময় ফাস্টফুড তো অবশ্যই থাকবে।
আনন্দ আলো: খেলা নিয়ে মজার কোনো স্মৃতি?
ইভানা: ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সময় আমি ছোট ছিলাম। তখন ফুটবল খেলা তেমন একটা বুঝতাম না। তবে খুব আগ্রহ নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে বসে খেলাগুলো দেখতাম। পছন্দের দল গোল করতেই সবার সে কি চিৎকার? সবার সঙ্গে আমি গোল গোল বলে চিৎকার করে উঠতাম। আবার অনেক সময় দেখা গেছে খেলা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছি।
তুষার: মজার স্মৃতি বলতে গত বিশ্বকাপে আমরা বন্ধুরা মিলে গাড়ি এবং মোটরসাইকেল নিয়ে র্যালি করতাম।
রোজা: গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে এসে আর্জেন্টিনা যখন বাদ পড়ে গেল তখন আমি ভীষণ কান্নাকাটি করেছিলাম। আর্জেন্টিনা হেরেছে বলে দুইদিন না খেয়ে ছিলাম।
নোবেল: বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে মজার স্মৃতি বলতে গতবারের বিশ্বকাপের সময় আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। আর্জেন্টিনার সাথে জার্মানির কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। সেই খেলায় জার্মানি আর্জেন্টিনাকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে। আর্জেন্টিনা হারার পর আমি খুব কেঁদেছিলাম। আমি কখনোই ভাবতে পারিনি আর্জেন্টিনা ৪ গোল খাবে।
মুগ্ধ: একদম ছোটবেলা থেকে খেলা দেখি। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা চলছিল স্পেন এবং নেদারল্যান্ডের মধ্যে। ফলে ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে আমার মন খারাপ ছিল। কারণ ঐ বছর ব্রাজিল ফাইনালে উঠতে পারেনি।
ছবি: রাকিবুল হক
জার্সি এবং ফুটবল সরবরাহ: স্টার স্পোর্টস, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ঢাকা

No comments:
Post a Comment