নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা শেষেও ম্যাচ ১-১ ড্র থেকে যায়। আক্রমণ
পাল্টা-আক্রমণ খেলাকে আরো শ্বাসরুদ্ধকর করে তোলে। শেষে নির্ধারিত সময়ের
মাঝে কোনো ফয়সালা না হওয়ায় আরো অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিট খেলা চালানর সিদ্ধান্ত
হয় ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু এ পর্বও রয়ে যায় ফলাফল শূন্য। বাধ্য হয়ে
যেতে ফলাফল নির্ধারনের শেষ স্তর- টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে ব্রাজিল প্রথম গোল পেলেও মিস হয়ে যায় চিলির। ব্রাজিল
গোলরক্ষক রুখে দেন গোল।
এদিকে দ্বিতীয় শট নিয়ে মিস করে বসে ব্রাজিলও। হয়তো
চাপে পেয়ে বসেছিল চিলিকে। তাই চিলির পক্ষে দ্বিতীয় শট নিতে আসা সানচেজও মিস
করে বসেন গোল। তৃতীয় শটে গিয়ে হাল্ককে রুখে দেন চিলির গোলরক্ষক। এদিকে
চিলি তার তৃতিীয় এবং চতূর্থ শটে গোল তুলে নেয়। চতূর্থ শট শেষে উভয় দলের গোল
সংখ্যা দাঁড়ায় ২-২। ব্রাজিলের পক্ষে পঞ্চম শট নিতে এসে নেইমার কিছুতেই
ভাবার সুযোগ দেননি চিলির গোলরক্ষককে। দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি তুলে নেন
তিনি। এদিকে চিলির পঞ্চম শটটি ফিরে আসে গোলবারে লেগে।
ফলাফল- বীরের মত খেলেও বিশ্বকাপ থেকে ট্র্যাজিক বিদায় চিলির।
এর আগে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের (নক আউট পর্ব) প্রথম খেলায় ব্রাজিল ও
চিলি ১-১ গোলে সমতায় থাকায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। প্রথমে ব্রাজিল এগিয়ে
থাকলেও পরে গোলের দেখা পেয়ে সমতায় ফেরে চিলি।
নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।
খেলা শুরুর আঠারো মিনিটের মাথায় চিলির গোলপোস্টে বল পাঠায় ডেভিড লুইস।
এদিকে বত্রিশ মিনিটের সময় ব্রাজিলের জালে পাল্টা বল পাঠায় সানচেজ।
বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় এই খেলা
শুরু হয়। দল দুটোর মধ্যে খেলা জমে উঠেছে। ব্রাজিলকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে দেখা যায়।
ল্যাটিন অ্যামেরিকার দল দুটোর মধ্যে অনেক খেলা হয়েছে, একে অপরের বিপক্ষে
৬৮ বার খেলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ বার জিতেছে ব্রাজিল, চিলি জিতেছে ৭ বার।
ব্রাজিল দিয়েছে ১৫৯ গোল, চিলি দিয়েছে ৫৮টি।
প্রথম পর্বের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে যাত্রা
শুরু করলেও মেক্সিকোর সঙ্গে ড্র করে ব্রাজিল। নিজেদের খুঁজে পাওয়ার ম্যাচে
ক্যামেরুনকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ভক্তদের আশা পূরন করে তারা।
অন্যদিকে চিলি স্পেনকে দুই গোলে পরাজিত করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে কেন
তাদের ডার্কহর্স খেতাব দেওয়া হয়েছে। যেভাবে অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনকে উড়িয়ে
দিয়ে চিলি নেদারল্যান্ডসের সাথে সমানে সমান তালে লড়েছে, বলা হচ্ছে চিলির এই
দল তাদের শেষ পঞ্চাশ বছরের সেরা দল।
উল্লেখ্য, ফুটবলের ইতিহাসে এপর্যন্ত ব্রাজিল শুধুমাত্র নিজ মাটিতে
একবারই পরাজিত হয়েছে। অপরদিকে খেলার মাঠে ব্রাজিল-চিলির দেখা হয়েছে মোট ৬৮
বার, যার মাঝে ৪৮ বারই জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল।
ব্রাজিল একাদশ
জুলিও সিজার, দানি আলভেজ, থিয়াগো সিলভা, ডেভিড লুইজ, ফার্নানদিনহো, মার্সেলো, হাল্ক, ফ্রেড, নেইমার, ওসকার, লুইস গুস্তাভো।
চিলি একাদশ
ব্রাভো, মেনা, ইসলা, সিলভা, সানচেজ, ভিদাল, ভার্গাস, মিডেল, জারা, অ্যরারাসগুইজ, ডিয়াস।
- See more at: http://www.priyo.com/2014/06/28/80983.html#sthash.VmkJlxrd.dpuf
No comments:
Post a Comment